২০১৯-২৪

যুক্তরাজ্যে বন্ধ হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যাংক শাখা

যুক্তরাজ্যের ব্যাংক খাতে গত পাঁচ বছরে বন্ধ হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শাখা।

যুক্তরাজ্যের ব্যাংক খাতে গত পাঁচ বছরে বন্ধ হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শাখা। চলতি বছর আরো শতাধিক শাখা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। মূলত পুরনো পদ্ধতির বদলে ডিজিটাল পরিষেবা শক্তিশালী করতে ব্যাংকগুলো এমন উদ্যোগ নিয়েছে। খবর এফটি।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক, বিল্ডিং সোসাইটি ও ক্রেডিট ইউনিয়নের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৭০-এ, যা ২০১৯ সালে ১০ হাজার ৪১০টি শাখার তুলনায় ৩৪ শতাংশ সংকোচন। শুধু গত বছরেই ১০ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

আগামী নভেম্বর নাগাদ লয়েডস, ন্যাটওয়েস্ট, হ্যালিফ্যাক্স ও ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড ১১৩টি শাখা বন্ধ করে দেবে। এর আগে মার্চে সান্তান্দার জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্যের ৪৪৪টি শাখার মধ্যে ৯৫টি বন্ধ করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে পরামর্শক সংস্থা কিয়ারনির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যই সবচেয়ে বেশি ব্যাংক শাখা বন্ধ করেছে। তবে শতকরা হারে এ প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। যেখানে যথাক্রমে ৩৭ ও ৪৮ শতাংশ ব্যাংক নেটওয়ার্ক সংকুচিত হয়েছে। কিয়ারনির জরিপের অন্তর্ভুক্ত থাকা আটটি প্রধান ইউরোপীয় অর্থনীতির প্রতিটিতেই ব্যাংকের শাখা কমছে।

তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংক শাখা রয়েছে। যেখানে স্পেন ও পর্তুগালে একই সংখ্যক মানুষের জন্য রয়েছে ২ দশমিক ৫ এবং ফ্রান্সে ৪ দশমিক ৯টি শাখা।

কিয়ারনির অংশীদার সামির পেথের মতে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্য সত্যিই আলাদা। যুক্তরাজ্য ডিজিটাল ব্যাংকিং দ্রুত গ্রহণ করেছে এবং তাই এখানে শাখা বন্ধের হার বেশি। দেশটিতে শাখা ঘনত্ব ক্যাশলেস লেনদেনের জন্য পরিচিত নর্ডিক দেশগুলোর তুলনায়ও কম।

মূলত বেশি গ্রাহক অনলাইনে ব্যাংকিং পরিষেবায় যুক্ত হওয়ায় ব্রিটিশ ব্যাংকগুলো খরচ কমানোর জন্য শাখা বন্ধ করছে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত গ্রাহক চাহিদা অনুসারে অ্যাপস হালনাগাদ ও অনলাইনে আরো বেশি সেবা দিচ্ছে।

সামির পেথে বলেন, ‘এটি শুধু দরজা বন্ধ করা বা খরচ কমানোর বিষয় নয়। এটি স্পষ্ট সংকেত যে ব্যাংকগুলো পরিচালন মডেল পুনর্গঠন ও ডিজিটালের দিকে জোর দিচ্ছে। কারণ অনলাইন ব্যাংকিং অধিকাংশ গ্রাহকের জন্য সাধারণ হয়ে উঠেছে।’

যুক্তরাজ্যে ২০২০-২৪ সালের মধ্যে ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা নেয়া গ্রাহক ৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৯ শতাংশ।

ইউকে ফাইন্যান্সের পার্সোনাল ব্যাংকিং ডিরেক্টর পিটার টাইলার বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিংয়ের ধরন কিছুদিন ধরেই পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদার কারণে ডিজিটাল সেবার দিকে ঝুঁকছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন গ্রাহকরা বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন। এর ফলে শাখায় পদচারণা কমেছে।’

আরও